স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ঘোষিত আমরণ অনশন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং সহকারী শিক্ষক সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রবিউল এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আলোচনায় অগ্রগতি
বৈঠকে সহকারী শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি হয় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এবং এতে শিক্ষক নেতারা তাদের তিন দফা মূল দাবি তুলে ধরেন।
প্রধান তিনটি দাবি হলো:
১ . সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ,
আরও পড়ুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি
২ . ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সুযোগ সহজতর করা,
৩. প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়ক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি।
মহাপরিচালক বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব আমরা ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশনের কাছে পাঠিয়েছি। বিষয়টি বাস্তবায়নে পে কমিশনের চেয়ারম্যান, অর্থসচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নে পে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্ভাবনা রয়েছে।
পদোন্নতির বিষয়ে ডিজি বলেন, “বিদ্যমান বিধিমালা সহজতর করা হয়েছে যাতে যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক এবং পরবর্তী পদে উত্তরণ সম্ভব হয়।”
৩২ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতির মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “মামলাটির শুনানি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই রায় পাওয়া যাবে এবং এরপর তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”
শিক্ষক সমাজের প্রতিক্রিয়া
সহকারী শিক্ষক সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রবিউল বলেন, “বৈঠকে আমরা সরকারের আন্তরিকতা দেখেছি। আমাদের দাবিগুলো নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে এবং যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের আশাবাদী করেছে। সেই কারণেই আমরা আমাদের ঘোষিত আমরণ অনশন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আমাদের দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আমরা আবার কর্মসূচিতে ফিরে যাব।”
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষক সমাজ কার্যকর বাস্তবায়ন চান। তারা এ বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত নজরদারি করবেন এবং সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
মহাপরিচালক জানান, “আমরা শিক্ষক সমাজের সম্মান ও স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে আলোচনার ফলাফলে শিক্ষক নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে সকল দাবি পূরণে আমরা সফল হবো।”
এই অনশন কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে এক সম্ভাব্য অচলাবস্থা সাময়িকভাবে এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখন শিক্ষক সমাজ আশায় বুক বেঁধেছে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেবে।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।