বিশেষ প্রতিবেদক: চাকসু,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট। ভিপি-জিএসসহ ২৬ পদের মধ্যে ২৪টিতেই জয়লাভ করেছেন এ প্যানেলের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাঈদ বিন হাবিব জয়ী হয়েছেন। এ প্যানেলের বাইরে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এবং সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে তামান্না মাহবুব প্রীতি জয় পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের ভিপি (সহসভাপতি) প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন। সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা এবং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সাতটি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের উত্থাপিত সাতটি অভিযোগ হলো—
আরও পড়ুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি
১. ভোটকেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে বিভিন্ন প্রার্থী প্রকাশ্যে ভোট চেয়েছেন এবং ভোটারদের হাতে স্লিপ বিতরণ করেছেন।
২. ভোটের কালি সহজেই মুছে যাচ্ছে।
৩. বহু ব্যালটে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেই।
৪. দুপুর ১২টার দিকে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে একাধিক কেন্দ্রে এলইডি স্ক্রিন বন্ধ ছিল।
৫. এক নারী সদস্য ভোটারদের বিরক্ত করেছেন এবং ভোটের স্লিপ বিতরণ করেছেন।
৬. নতুন কলা অনুষদের সামনে লাঠি ও ইট নিয়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
৭. এক নম্বর গেট দিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আশ্বাস সত্ত্বেও এলইডি স্ক্রিন ও ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন আগের দিন প্রজেকশন মিটিংয়ে মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে।
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী মো. শাফায়াত হোসেন বলেন, আমাদের আইডি কার্ড ও ছবি যাচাই করেও কিছু ভোটগ্রহণকারী স্বাক্ষরহীন ব্যালট দিয়েছেন। ফরহাদ হলে ৪৩১ ও ৪৩২ নম্বর বুথে এক নারী সদস্যের স্লিপ বিতরণের প্রমাণ আছে। নতুন কলা অনুষদে আমাদের ওপর লাঠি ও বাঁশ নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি। একাধিক শিক্ষক পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন এবং বিভিন্ন সংগঠনভিত্তিক প্রচারণা চালানো হয়েছে ক্যাম্পাসে। এমনকি আমার হাতের কালি পর্যন্ত মুছে গেছে।
চাকসুতে ‘কারচুপি চেষ্টার’ প্রতিবাদে শাহবাগে ছাত্রদলের অবস্থা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (চাকসু) কারচুপি চেষ্টার প্রতিবাদে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়বাদী ছাত্রদল। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে তারা এই কর্মসূচি পালন করে। অন্যদিকে প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রদলের একাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন যুগান্তরকে বলেন, চাকসু নির্বাচনে দিনব্যাপী নানা ধরনের অনিয়মের খবর পেয়েছি আমরা। তবে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। একইসঙ্গে চাকসুতে সত্তর শতাংশের মতো ভোট পরেছে কিন্তু এই স্বল্প ভোটারের ভোট গুনে নাকি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশ করা হবে। যাতে জাহাঙ্গীরনগরের মতো ভোট গণনায় কোনো অনিয়ম না করতে পারে তার প্রতিবাদে আমারা শাহবাগে অবস্থান নিচ্ছি।
এর আগে শাহবাগ থেকে ছোট একটি মিছিল বের করে ছাত্রদলের একাংশ। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস প্রার্থী পদে নির্বাচন করা শেখ তানভীর বারী হামিম, ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক পদের প্রার্থী সাইফউল্লাহসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একাংশ উপস্থিত ছিল।
জানতে চাইলে সাইফ বলেন, চাকসু নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে আমরা এই মিছিল করেছি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন রনি অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে মব সৃষ্টি করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারাদিন ভোটগ্রহণ হয়েছে। আমাদের এক বন্ধু ভোট দিতে পারেনি। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় মব সৃষ্টি করা হয়েছে। একটি ছাত্র সংগঠন তাদের লোকজনকে ১নং গেটে নিয়ে এসেছে। আমরা একটা শঙ্কার পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। ইব্রাহীম হোসেন রনি আরও বলেন, আমরা মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছি। তারা মৌখিক অভিযোগের জবাব দিলেও লিখিত অভিযোগের কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ভোট সুষ্ঠু হয়েছে কিনা, সেটা জানাবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের যতগুলো অভিযোগ ছিল, সেগুলো জমা দিয়েছি। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হোক।
চাকসুতে ‘কারচুপি চেষ্টার’ প্রতিবাদে শাহবাগে ছাত্রদলের অবস্থান
ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (চাকসু) কারচুপি চেষ্টার প্রতিবাদে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়বাদী ছাত্রদল। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে তারা এই কর্মসূচি পালন করে। অন্যদিকে প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রদলের একাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন যুগান্তরকে বলেন, চাকসু নির্বাচনে দিনব্যাপী নানা ধরনের অনিয়মের খবর পেয়েছি আমরা। তবে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। একইসঙ্গে চাকসুতে সত্তর শতাংশের মতো ভোট পরেছে কিন্তু এই স্বল্প ভোটারের ভোট গুনে নাকি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশ করা হবে। যাতে জাহাঙ্গীরনগরের মতো ভোট গণনায় কোনো অনিয়ম না করতে পারে তার প্রতিবাদে আমারা শাহবাগে অবস্থান নিচ্ছি।
এর আগে শাহবাগ থেকে ছোট একটি মিছিল বের করে ছাত্রদলের একাংশ। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস প্রার্থী পদে নির্বাচন করা শেখ তানভীর বারী হামিম, ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক পদের প্রার্থী সাইফউল্লাহসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একাংশ উপস্থিত ছিল।
জয়
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।