রোববার (৫ অক্টোবর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ গণমাধ্যমে প্রস্তাবের কপি পাঠান।
প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকার পরিবর্তে মূল বেতনের কমপক্ষে ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ালে সরকারের ব্যয় কত হবে, তার বিস্তারিত আর্থিক হিসাব সংযুক্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট ১,০০০ টাকার পরিবর্তে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বা ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা হারে ভাতা দিলে বছরে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩,৪০০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
মনিপুর স্কুলের ৫ শাখার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিলো সরকার
এর মধ্যে—
-
স্কুল-কলেজ খাতে ব্যয়: ২,৩৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা,
-
মাদরাসা খাতে ব্যয়: ৯০৭ কোটি ২ লাখ টাকা,
-
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খাতে ব্যয়: ১৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাসে ১ হাজার টাকা হারে বাড়িভাড়া ভাতা প্রদান করা হয়। এতে সরকারের মাসিক ব্যয় ৩৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ৪৬৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২,০০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা দিলে বছরে ব্যয় হবে ২,৪৩৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
এর মধ্যে—
-
স্কুল-কলেজের জন্য: ১,৭২৭ কোটি টাকা,
-
মাদরাসার জন্য: ৬০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা,
-
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য: ১০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।
মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা ন্যূনতম ২,০০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা দিলে বছরে খরচ হবে ১,৭৬৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে—
-
স্কুল-কলেজের জন্য: ১,২৬৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা,
-
মাদরাসার জন্য: ৪২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা,
-
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য: ৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
মূল বেতনের ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২,০০০ টাকা হারে বাড়িভাড়া ভাতা দিলে বছরে ব্যয় হবে ১,৩৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
এর মধ্যে—
-
স্কুল-কলেজের জন্য: ৯৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা,
-
মাদরাসার জন্য: ৩৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা,
-
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য: ৫৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণে (১,০০০ টাকা) ভাতা দেওয়া হয়, যা দেশের বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি শিক্ষকদের।
তারা বলেন, সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মতো অন্তত মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাড়া ভাতা না পেলে তাদের পেশাগত জীবনে বৈষম্য থেকে মুক্তি মিলবে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৪৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার কর্মচারী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বাড়িভাড়া ভাতা ছাড়াও চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা (বোনাস) বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে। তারা বলছেন, “এটি যদি দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক স্বস্তি অনেকটা ফিরে আসবে।”
তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন— “অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন পেলে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর বেসরকারি শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষক সমাজ মনে করছে— এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।