রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৫-এ স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমান স্বীকার করেছেন, দেশের হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি ও ত্রুটি রয়েছে, যার দায় সরকারের। তিনি বলেন, “জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সময়মতো অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পৌঁছানো করোনার সময় সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রস্তুতি ধরে রাখা যায়নি।”
আইসিডিডিআর,বি আয়োজিত এই সামিটে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অক্সিজেনের বর্তমান অবস্থা, চাহিদা, প্রাপ্যতা, নীতিমালা, বিনিয়োগ ও গবেষণা কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. এ এইচ এম মইনুল আহসানসহ স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্যসচিব বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকার অক্সিজেন সরবরাহে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু বিপদ কেটে যাওয়ার পর মনোযোগ ধরে রাখা যায়নি। এখন আমাদের জনবল ও সরঞ্জাম উভয়ের ঘাটতি আছে। পুরনো ও নতুন সব হাসপাতালেই অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, সরকার হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নিয়েছে, এবং এর অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিস্টেম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্যোগ চলছে।
আরও পড়ুন
জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আর কথার কথা শোনার সময় নেই
আইসিডিডিআর,বি’র উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে অক্সিজেনের প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে, কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক হাসপাতাল জরুরি সময়েও অক্সিজেন সংকটে পড়ে। গবেষণায় বলা হয়েছে, অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ কমিশন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় অক্সিজেন সেবা ও পালস অক্সিমিটার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সিজেন সেবা ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। তাই সরকারকে ফি কমানো ও বিনামূল্যে সেবা প্রদানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
![]()
![]()
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল অক্সিজেন এখন জনস্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে এই খাতকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করতে হবে। তারা বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা ও মূল্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী অক্সিজেনের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, মেডিকেল অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের বিষয়। তাই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, দাতা সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে—যাতে দেশে ভবিষ্যতে কোনো হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতিতে প্রাণহানি না ঘটে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।