বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করেছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা। আগামীকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) থেকে সারাদেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছেন।
শিক্ষকদের সংগঠন ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’ এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদেই এই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষক নেতারা সোমবারের মধ্যে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে ক্লাস বর্জন করে দেশব্যাপী কর্মবিরতি শুরু করার।
তবে বিকেলে প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত ও আটক হওয়ার পর সংগঠনের নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে সোমবার থেকেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করবেন।
আরও পড়ুন
‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষক নেতারা বলেন, “আমরা ন্যায্য দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলাম। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষক সমাজকে ভয় দেখিয়ে দাবিদাওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে না।”
তারা আরও বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমানে ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা যথেষ্ট নয়। রাজধানীসহ দেশের সব জায়গায় ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষকদের পক্ষে বর্তমান ভাতায় জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই কর্মবিরতির কারণে সারাদেশে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ১ কোটি শিক্ষার্থী পাঠচ্যুত হতে পারে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করবে।
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, পরীক্ষা বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না শিক্ষকরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাজেট ঘাটতি এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখনই ভাতা বৃদ্ধি করা সম্ভব কিনা তা যাচাই করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জানিয়েছেন, “শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। সরকার তাদের সমস্যা সমাধানে সংলাপের পথেই এগোতে চায়।”
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের অন্যতম বড় কাঠামো বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৃদ্ধি, চাকরি জাতীয়করণ ও ন্যায্য মর্যাদা দাবি করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের দাবি আরও যৌক্তিক হয়ে উঠেছে।
তবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলতে থাকলে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানমূলক পদক্ষেপ না এলে শিক্ষাক্ষেত্রে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।