প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সোমবার (৬ অক্টোবর) টেলিভিশন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াটি আয়নার মতো স্বচ্ছ হবে — এবং সেই লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।
নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন যে, তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখন ভোটাদির জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চান।
“আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আয়নার মতো স্বচ্ছ একটা নির্বাচন করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” — সিইসি নাসির উদ্দিন
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার সংস্থা (Reform Commission) বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে এসেছে, যার কারণে এই ধরণের সংলাপ কিছুটা দেরিতে হলেও জরুরি। সাংবাদিকদের মতামত নিয়ে তারা এগোতে চান, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করতে চান।
আরও পড়ুন
ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকার ৬০ শতাংশ এলাকা
নাসির উদ্দিন দাবি করেছেন, দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে কমিশন বেশ কিছু “গুরুত্বপূর্ণ কাজ” শেষ করেছে:
-
২১ লাখের বেশি মৃত ভোটার শনাক্ত ও তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে
-
ভোটাযোগ্যদের তালিকা সম্প্রসারণ করে ৪৩ লাখেরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত করা হয়েছে
-
পুরুষ–নারীর ভোটার পার্থক্য যা ছিল ৩০ লাখ, তা বর্তমানে ১৮ লাখে নেমেছে
তিনি বলেন, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ ফিরে আনতেই নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাও শীঘ্রই কার্যকর হবে।
কমিশন এ বছর ভোট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ লোক এমন দায়িত্বে রয়েছে।
সিইসি আরো বলেন, “মিডিয়াকে পার্টনার নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।” তিনি মিথ্যা তথ্য (misinformation) ও গোষ্ঠীতথ্য (disinformation) মোকাবেলায় সাংবাদিকদের গুরুত্ব দিতে বলেছেন।
নাসির উদ্দিন বলেন, “মিসইউনফরমেশন, ডিসইনফেমেশন অ্যাড্রেস করার জন্য আপনাদের গুরুত্ব অনেক।” অর্থাৎ, শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব নয় — তথ্য যাচাই ও মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া— তার ওপর সাংবাদিকদের দৃষ্টিপাত।
প্রসঙ্গত, তিনি ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন যে তারা অবৈধ প্রভাব ও প্রযুক্তি (বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা / AI) ব্যবহারের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক।
নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে নয়টি আইন-সংসোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই সংশোধনীগুলি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং যেসব ফাঁক আছে, সেগুলো শীঘ্রই পূরণ করা হবে।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ, প্রচার ও নির্বাচন উপকরণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া এগিয়ে এনেছে।
নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনকে একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পনা করছেন, যেখানে ভোটার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া — সকলেই সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তিনি বলেন, “আপনাদের মতামত নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”
নির্বাচন প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। প্রথমত, ভোটার তালিকা নির্ভুলতা নিশ্চিত করা — বহু মৃত ভোটার বাদ দেয়া হলেও ভুল বা বাউন্স বিতর্ক থাকতে পারে।
দ্বিতীয়ত, প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর ভাবে নিশ্চিত করা — আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া যথাযথভাবে চালু করা এক বড় পদক্ষেপ।
তৃতীয়ত, মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ও প্রযুক্তি অপব্যবহার— বিশেষ করে AI ভিত্তিক প্রবঞ্চনা— প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সিইসি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন যদি সকল অংশগ্রহণকারীকে সমান সুযোগ দেয়, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং প্রতারণা রোধে সক্ষম হয়, তাহলে এই নির্বাচন জনমানুষের আস্থা পেতে পারে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে স্পষ্ট করেছেন, আগামী নির্বাচন তারা আয়নার মতো স্বচ্ছভাবে আয়োজন করতে চান। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, মৃত ভোটার বাদ, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, মিডিয়া অংশীদারি ও মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ — এসবই নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক।
তবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও সকল পক্ষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়াই, এমন পরিকল্পনাও অর্ধেক অর্ধেকেই থেকে যেতে পারে। আগামী নির্বাচনকে সত্যিই একটি অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া হিসেবে গড়ে তুলতে, সবার সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।