বগুড়ার এক মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে ওয়েলকাম প্রতারণা চক্রের মূলহোতা রাজু মুন্সিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ।
জানা গেছে, বগুড়ার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল হক-এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে রাজু মুন্সি জানায়, তার নামে উপবৃত্তির একটি বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এরপর চাতুর্যের সঙ্গে শিক্ষককে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিতে বলেন এবং মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপি (OTP) নাম্বারটি যাচাইয়ের জন্য চেয়ে নেন। কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষক বুঝতে পারেন, তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর ডিবি পুলিশের চৌকস টিম তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তারা জানতে পারে, এই প্রতারণার মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালপাশা গ্রামের জালাল মুন্সির ছেলে রাজু মুন্সি।
পুলিশ জানায়, রাজু মুন্সি বহুদিন ধরে প্রতারণা চক্র পরিচালনা করে আসছে। সে বিভিন্ন সময় নিজেকে ব্যাংক কর্মকর্তা, মোবাইল অপারেটর প্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ফোন করে ‘ওয়েলকাম অফার’ বা উপবৃত্তি, ইনসেনটিভ, পুরস্কার প্রাপ্তির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত।
আরও পড়ুন
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন, যুক্ত হচ্ছে ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ
ভাঙ্গা থানা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে রাজু মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, চক্রটির আরও সদস্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা কালবিন্দুকে জানান,
“রাজু মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে ফোন কলের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকার উৎস ও সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু মুন্সি স্বীকার করেছে, সে একাই নয়—একটি সংগঠিত প্রতারক নেটওয়ার্কের সদস্য, যারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেন থেকে তথ্য সংগ্রহ করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজু মুন্সি এলাকায় “ওয়েলকাম রাজু” নামে পরিচিত। সে বিভিন্ন সময় নতুন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিজ পরিচয় গোপন রাখত।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা চক্রটির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং রাজুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অভিযান চালিয়ে বাকি টাকা উদ্ধার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হবে।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।