শিরোনাম LIVE
২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কারণ জানতে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডাকল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু নিয়ে যা জানা গেল ১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির, সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে নেওয়া হচ্ছে ইউরেনিয়ামের বিশেষ চালান ১০০ জনকে পার্টটাইম চাকরি দেবে আড়ং, লাগবে না অভিজ্ঞতা এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চাকরিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম ফেসবুকে আসছে বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ পদত্যাগের পর যে বার্তা দিলেন মোদির অনুগত শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষা স্থগিত তাসকিনই এনে দিলেন দ্বিতীয় উইকেট, চাপে জিম্বাবুয়ে নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী সন্দেহে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ মোমেন্ট অব দ্য ডে ৬ পদে মোট ৭৩১ জনকে নিয়োগ দেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর সার্টিফিকেটে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা বোর্ডের বাংলাদেশ থেকে খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান গেলেন যারা স্টেডিয়াম সংস্কারে ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প. বালু উত্তোলন ও মাটি কাটায় দক্ষিণাঞ্চলে নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক

কিশোর গ্যাং: অপরাধের নতুন মুখ, বিপদের নতুন নাম

শেয়ার
কিশোর গ্যাং: অপরাধের নতুন মুখ, বিপদের নতুন নাম

বাংলাদেশের শহর থেকে শুরু করে মফস্বল সব জায়গায়ই ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এক নতুন সামাজিক বিপর্যয়: কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি। অল্প বয়সে অপরাধে জড়িয়ে পড়া এই কিশোরদের দল এখন সমাজের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শুধু নিরীহ মানুষই নয়, ভেঙে পড়ছে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধও।

কিশোর গ্যাং কী এবং কীভাবে গড়ে ওঠে

‘কিশোর গ্যাং’ বলতে বোঝানো হয় এমন একটি কিশোর দলকে, যারা সংগঠিতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে যেমন মারামারি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভাড়াটে হামলা বা রাজনৈতিক সহিংসতা। সাধারণত এই দলগুলোর সদস্যদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। প্রথমে তারা বন্ধুদের নিয়ে ছোটখাটো দুষ্টুমি বা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অপরাধে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার মূল কারণগুলো হলো পারিবারিক অনিয়ম, অভিভাবকদের অমনোযোগ, শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ, সামাজিক বৈষম্য, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বড়দের গ্যাং থেকে প্রভাবিত হয় বা রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এসব প্ল্যাটফর্ম কিশোর গ্যাং গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফলোয়ার বাড়ানো’, ‘লাইভে চ্যালেঞ্জ ছোড়া’ বা ‘দেখিয়ে দেওয়া’ সংস্কৃতির মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়। ভিডিওতে অস্ত্র হাতে বা গ্যাংয়ের নাম নিয়ে ‘হাইপ তোলা’ এখন একধরনের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন নেত্রকোনার বারহাট্টায় ভারতীয় শাড়ি ও থান কাপড়সহ ট্রাক আটক, চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় সারাদেশ · ১৬.১০.২০২৫

ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রাজধানীতে ৫০টিরও বেশি সক্রিয় কিশোর গ্যাং শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ‘লাইভ’ করে।

শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালেও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে দুই গ্যাংয়ের সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়; নারায়ণগঞ্জে ‘ব্লাডি সেভেন’ নামে একটি গ্যাং পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদন বলছে, ২০২4 সালে সারাদেশে কিশোর অপরাধের মামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ জুড়ে আছে গ্যাং–সংক্রান্ত সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

মানসিক কারণ ও পারিবারিক ভূমিকা

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কৈশোর হলো এক সংবেদনশীল সময়, যখন একজন মানুষ নিজের পরিচয়, স্থান ও মর্যাদা খোঁজে। এই বয়সে যদি সে সঠিক দিকনির্দেশনা না পায়, তখন সহজেই ভুল পথে চলে যায়।
পরিবারের ভাঙন, অভিভাবকদের অনুপস্থিতি বা অমনোযোগ, নির্যাতন, এবং ভালোবাসার অভাব সব মিলিয়ে কিশোররা বাইরে ‘বন্ধুদের’ মধ্যে আশ্রয় খোঁজে। সেখানে যদি গ্যাংয়ের মতো সংগঠন তাদের গ্রহণ করে, তারা দ্রুত সেই সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায়।

একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “কিশোররা স্বীকৃতি চায়, মর্যাদা চায়। গ্যাং তাদের সেই স্বীকৃতি দেয়—যদিও তা অপরাধের মাধ্যমে।”

রাজনীতি ও গ্যাং সংস্কৃতি

আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, অনেক কিশোর গ্যাং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকে। রাজনৈতিক নেতা বা ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষার জন্য এই কিশোরদের ব্যবহার করেন মিছিল-মিটিং, জমি দখল বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর কাজে। এতে কিশোররা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, কারণ তারা বিশ্বাস করে “আমাদের কিছু হবে না।”

একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“আমরা অনেক সময়ই দেখি, কিশোর গ্যাং সদস্যরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এতে তারা আরও উৎসাহিত হয়।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই সমস্যার বাইরে নয়। স্কুল ও কলেজে গ্যাং সদস্যদের আধিপত্য দিন দিন বাড়ছে। কেউ কারও সঙ্গে চোখাচোখি করলে মারামারি, রাজনৈতিক পরিচয়ে দম্ভ দেখানো, কিংবা টিফিনের সময় দলে দলে ঘুরে বেড়ানো এসব এখন সাধারণ চিত্র।
শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত কাউন্সেলিং, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা জরুরি।

আইনের দৃষ্টিতে কিশোর অপরাধ

বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে কারও দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলা হয়, এবং তাদের জন্য আলাদা বিচারব্যবস্থা রয়েছে। তবে সমস্যা হলো গ্যাংয়ের অপরাধে জড়িত অনেক কিশোরকে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রভাবের কারণে তারা ছাড়ও পায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় কেবল শাস্তি নয়, পুনর্বাসনই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

কিশোররা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের যদি অপরাধের পথে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই এখনই সময় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার।
শাস্তির ভয় নয়, সঠিক দিকনির্দেশনা ও ভালোবাসা দিয়েই কিশোরদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব আলোর পথে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
NN
লেখক সম্পর্কে No Name টাইমস নিউজ ২৪
পরবর্তী খবরকাদিরদী বাজারে আগুনে পুড়ে প্রায় ২কোটি টাকার ক্ষতি

আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য করতে লগইন করুন

এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।

সারাদেশ থেকে আরও

বিভাগ দেখুন →
Times News 24
Total Visitors
—
Today: —