নেত্রকোনার কলমাকান্দায় স্ত্রীকে বাঁচাতে অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে আছর উদ্দিন (৪০) নামের এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লেঙ্গুরা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আছর উদ্দিন উপজেলার খারনই ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের মৃত তহুর উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আছর উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনা আক্তার (৩০) দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে আছর উদ্দিন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে স্ত্রীকে নিয়ে বটতলা এলাকা থেকে শ্বশুরবাড়ি কেবলপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে লেঙ্গুরা বাজার এলাকায় পৌঁছালে শাহিনা আক্তার হঠাৎ চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দেন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে আছর উদ্দিনও তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে লাফ দেন। এতে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান,
“ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে বুঝে ওঠার সুযোগ ছিল না। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই প্রাণ দিয়েছেন আছর উদ্দিন।”
আরও পড়ুন
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ভারতীয় শাড়ি ও থান কাপড়সহ ট্রাক আটক, চোরাকারবারি চক্র সক্রিয়
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, আছর উদ্দিন ছিলেন পরিশ্রমী ও পরিবারপ্রেমী মানুষ। স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি প্রায়ই তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান কালবিন্দুকে বলেন,
“ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি দুর্ঘটনা। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, আছর উদ্দিন মাথা ও বুকের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, আছর উদ্দিনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করা আছর উদ্দিনের ঘটনাটি মানবিকতার এক ব্যতিক্রম উদাহরণ হয়ে থাকবে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।