নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ভারতীয় শাড়ি ও থান কাপড় পাচারের সময় স্থানীয় জনতা একটি ট্রাক আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের নৈহাটি বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি ও মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
বারহাট্টা থানার পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো–ন ১২–০০৫৩। ট্রাকের ভেতর থেকে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১,২৩৭ পিস শাড়ি এবং ১,৫১২ পিস থান কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। সব মালামাল জনতার উপস্থিতিতে গণনা ও তালিকাভুক্ত করা হয়।
ওসি জানান, “পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়। মালামালগুলো আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মহেশখলা সীমান্ত হয়ে ভারতীয় পণ্য—বিশেষত শাড়ি, থান কাপড় ও প্রসাধনী—নিয়মিত পাচার হচ্ছে। চিরাং ইউনিয়ন থেকে নৈহাটি হয়ে বারহাট্টা সড়কটি পাচারকারীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, “বিগত সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসন, রাজনীতি ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই চোরাকারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যখন ম্যানেজমেন্টে ঘাটতি পড়ে, তখনই কোনো কোনো চালান ধরা পড়ে।”
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিদিনই রাতের অন্ধকারে ভারতীয় মালামাল ঢোকে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় পুলিশ বা প্রশাসন কিছু জানে না। এবার স্থানীয়রা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে আটক করেছে।”
বারহাট্টা থানার ওসি জানান, “বুধবার রাতে ত্রিপল নাইনে (৯৯৯) একটি কল আসে, যেখানে জানানো হয় যে, উপজেলার চিরাং ইউনিয়নে চোরাকারবারিদের একটি বড় চালান প্রবেশ করছে। খবর পেয়ে আমরা তৎক্ষণাৎ অভিযান চালাই। প্রথমে সন্দেহভাজন স্থানে কিছু পাওয়া যায়নি। পরে ভোররাতে স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকটি আটক করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে আমরা সব মালামাল তালিকাভুক্ত করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হয়েছে এবং রাজধানীমুখী ছিল।”
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী মহেশখলা, গেরিয়া ও চিরাং এলাকার কিছু পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করে। পরে ছোট ছোট যানবাহনে করে রাতের বেলায় সেগুলো জেলার অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। পরে এসব পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়।
একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, “এই রুটটি বহুদিন ধরেই সক্রিয়। এমনকি কয়েক বছর আগে একই ধরনের ট্রাকসহ কয়েকটি চালান আটক হয়েছিল, কিন্তু পরে আবার কার্যক্রম শুরু হয়।”















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।