আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দুই বছরের টানা বোমা, ধ্বংস আর রক্তপাতের পর গাজায় চলছে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি। অনেকের চোখে এটি শান্তির সূচনা হলেও গাজার চিকিৎসক হায়া হিজাজির চোখে এটি কেবল ক্ষণিকের বিরতি যেন যুদ্ধ আবার ফিরে আসার আগের নীরবতা।
যুদ্ধবিরতি নয়, যেন যুদ্ধের অপেক্ষা
“আমি (হায়া হিজাজি) বিশ্বাস করতে চাই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে”। “কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে গাজায় কোনো যুদ্ধবিরতিই স্থায়ী হয়নি।”তার মতে, ইসরাইল কখনোই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্মান করেনি। গাজা ইস্যু শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ভূমি ও অস্তিত্বের লড়াই।
এই যুদ্ধবিরতিকে গাজাবাসী এক ধরনের ‘শ্বাস নেওয়ার সুযোগ’ হিসেবে দেখলেও বাস্তবে তাদের কষ্ট শেষ হয়নি। “বোমা আপাতত বন্ধ, কিন্তু দুর্ভোগ এখনও চলছেই,” যোগ করেন হায়া।
নির্বাসনে বেঁচে থাকার লড়াই
চলতি বছরের মার্চে হায়া তার ভাইবোনদের নিয়ে গাজা ছাড়েন। রাফাহ সীমান্ত পেরিয়ে মিশরে প্রবেশে তাদের খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার ডলার। বর্তমানে কায়রোর নাসর শহরে একটি হাসপাতালে কাজ করছেন তিনি এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করছেন।
আরও পড়ুন
গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি হামলা, একই পরিবারের ১১ জন নিহত
“এটা কোনো পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং বেঁচে থাকার চরম প্রয়াস,” বলেন তিনি। “কিন্তু পরদেশে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই যেন নির্বাসন। কোনো আইনি অধিকার নেই, মানবিক সহায়তাও নেই। নিরাপদ থাকলেও সেটা যেন এক ফাঁপা নিরাপত্তা।”
স্বাস্থ্যখাতে মানবিক বিপর্যয়
গাজার চিকিৎসাব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। অনেক হাসপাতাল পরিণত হয়েছে শরণার্থী ক্যাম্পে। নেই যথাযথ ওষুধ, রক্ত, বিদ্যুৎ কিংবা পানিও। একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে হায়া ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন। “নারীরা খোলা মাঠে, ধুলোবালিতে, ব্যথানাশকহীন অবস্থায় সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। এমন দৃশ্য কোনো চিকিৎসকের দেখার কথা না,” বলেন তিনি।
গাজাবাসীর মনোযোগ এখন রাজনীতি নয়, বাঁচার দিকে
“অনেকে হামাসকে প্রতিরোধের প্রতীক ভাবলেও,” হায়া বলেন, “গাজাবাসীর বড় অংশ এখন শুধু বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তারা চায় স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা আর স্বাভাবিক জীবন। ”অবরোধ, বাস্তুচ্যুতি আর অস্তিত্ব সংকটে জর্জরিত এই জনগোষ্ঠীর জন্য ‘যুদ্ধবিরতি’ মানে যুদ্ধ থেমেছে নয় কেবল অপেক্ষা শুরু হয়েছে পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞের।
গাজার মানুষের কাছে আজ শান্তি মানে শুধুমাত্র বেঁচে থাকা। যুদ্ধবিরতি তাদের কাছে সাময়িক প্রশান্তি, কিন্তু ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এখনো ঘিরে রেখেছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।
চিকিৎসক হায়া হিজাজির কণ্ঠে এই প্রশ্নই যেন প্রতিধ্বনিত হয়: “যখন আশ্রয়হীন মানুষ, ভাঙা ঘর, অব্যাহত অবরোধ আর প্রতিনিয়ত ভয় তখন এটাকে কি কেউ সত্যিকার শান্তি বলতে পারে?”
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।