অ্যানথ্রাক্স: গবাদিপশু থেকে মানুষের প্রাণঘাতী সংক্রমণ ও প্রতিরোধের উপায়
বাংলাদেশে গবাদিপশুর রোগগুলোর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স অন্যতম পরিচিত ও ভয়ংকর রোগ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলেও মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এটি মূলত ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ। প্রথমে গবাদিপশু আক্রান্ত হয় এবং পরে আক্রান্ত পশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটে। তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ ছড়ায় না। এজন্য অ্যানথ্রাক্সকে একটি জুনোটিক ডিজিজ বলা হয়। বাংলায় এটি পরিচিত ‘তড়কা রোগ’ নামে।
কীভাবে ছড়ায় অ্যানথ্রাক্স
গবাদিপশু থেকে তিনভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এ রোগের জীবাণু:
- ত্বকের মাধ্যমে – পশম, হাড় বা অন্যান্য পশুজাত পণ্যের সংস্পর্শে ত্বকের ক্ষত দিয়ে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।
- শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে – ব্যাকটেরিয়ার রেণু শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে।
- খাবারের মাধ্যমে – অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ হয়।
আরও পড়ুন
মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন, ব্যয় প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা
অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ
- খাবারের মাধ্যমে সংক্রমণ হলে: বমিভাব, বমি, রক্তবমি, পেট ব্যথা, মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা, জ্বর, গলা ব্যথা, ঘাড় ফুলে যাওয়া, রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা।
- শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সংক্রমণ হলে: গলা ব্যথা, জ্বর, ক্লান্তি, পেশি ব্যথা, বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, কফের সঙ্গে রক্ত, রক্তচাপ কমে যাওয়া।
- ত্বকের মাধ্যমে সংক্রমণ হলে: পোকার কামড়ের মতো ফোলা ক্ষত, মাঝখান কালো হয়ে যাওয়া, চারপাশে ফোলাভাব, চুলকানি ও জ্বর।
বিশেষজ্ঞ মত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন,
“ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস ব্যাকটেরিয়া মাটিতে দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকতে পারে। সংক্রমিত চারণভূমি, দূষিত পানি, খাবার বা মৃত পশুর সংস্পর্শে এলে গবাদিপশু আক্রান্ত হয় এবং সেখান থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। তবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।”
তিনি আরও বলেন, “অ্যানথ্রাক্স থেকে বাঁচার প্রধান উপায় হলো সংক্রমিত প্রাণী ও পশুজাত পণ্যের সংস্পর্শ এড়ানো। গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে এবং সন্দেহজনক মাংস খাওয়া যাবে না।”
প্রতিরোধের উপায়
- মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না না করা পর্যন্ত খাওয়া যাবে না।
- ত্বকে কাটা বা ক্ষত থাকলে কাঁচা মাংস খালি হাতে নাড়ানো যাবে না।
- গবাদিপশুকে প্রতি বছর একবার অ্যানথ্রাক্স টিকা দিতে হবে।
- অসুস্থ পশুর যত্ন নেওয়ার সময় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।
- অসুস্থ গবাদিপশুর মাংস খাওয়া, কাটাকাটি বা সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
- আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা অবশ্যই রেজিস্টার্ড প্রাণী চিকিৎসকের পরামর্শে করতে হবে।
- মানুষের শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
অ্যানথ্রাক্স ভয়ংকর সংক্রামক রোগ হলেও সচেতনতা, সঠিক টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মূলত ছড়ায় আক্রান্ত প্রাণীর মাধ্যমে। এ জীবাণু মাটিতেও থাকতে পারে। কেউ যদি অসুস্থ প্রাণীর মাংস খায় কিংবা শ্বাসের মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু তার শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে তিনি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত দিয়েও অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে।















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।