ধানের মাঠে নতুন আশা: উচ্চফলনশীল জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
বাংলাদেশের কৃষির প্রাণ হলো ধান। দেশের মোট ফসল উৎপাদনের প্রায় ৭৫ শতাংশ জুড়েই ধান রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, বন্যা, লবণাক্ততা ও রোগবালাইয়ের কারণে ধান উৎপাদন অনেক সময় হুমকির মুখে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বেশ কিছু উচ্চফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী ধান জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) যৌথভাবে ধানের বেশ কিছু নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে।
· ব্রি ধান-৮১ ও ৮৭: খরা সহনশীল, কম পানিতেও ফলন বেশি।
আরও পড়ুন
মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন, ব্যয় প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা
· ব্রি ধান-৯২: বন্যা সহনশীল, পানির নিচেও ১৪ দিন টিকে থাকতে পারে।
· ব্রি ধান-৭৫ ও ৮৯: লবণাক্ত জমিতে ভালো ফলন দেয়।
· ব্রি ধান-১০০: সর্বশেষ উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত, প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৭ টন পর্যন্ত হতে পারে।
ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষিতে সবজি উৎপাদনেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শীতকালীন সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, শসা, গাজর, শিমের উৎপাদন এখন শুধু শীতেই নয়, সারা বছরই হচ্ছে। উন্নত বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে দেশের সবজি উৎপাদন গত ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।
আম, লিচু, কলা, পেয়ারা, তরমুজ ও ড্রাগন ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান দেশ। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলে আমের উৎপাদন আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি পাচ্ছে। সম্প্রতি রাজশাহী থেকে সরাসরি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আম রপ্তানি শুরু হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে হলে কৃষিপণ্যের নিরাপদ উৎপাদন ও মান বজায় রাখা জরুরি। এজন্য কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ, জৈব সার ব্যবহার এবং নিরাপদ খাদ্য শংসাপত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।