সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ছাত্রদলের মিছিলে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন আসামিকে আমরা গ্রেফতার করেছি। সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
গ্রেফতার হওয়া তিন নেতা হলেন—আমতলী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির এবং পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অমিত রসুল অপু।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২২ অক্টোবর রাতে আমতলী সরকারি কলেজের সামনে থেকে উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও হামলা চালানো হয়, এতে অন্তত কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী আহত হন।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশ সেজে ধারাবাহিক ডাকাতি, আতঙ্কে নগরবাসী
ঘটনার প্রায় এক বছর পর, গতকাল ৫ অক্টোবর রাতে, আমতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহাত প্যাদা বাদী হয়ে ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে—হামলাকারীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মিছিলে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে আক্রমণ চালায়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী দগ্ধ ও আহত হন।
আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “নতুন মামলার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করি। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, প্রয়োজনে অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হবে।”
থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের একাধিক দল রবিবার রাতভর আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিন্টু মল্লিককে তার নিজ বাসা থেকে, হুমায়ুন কবিরকে আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন থেকে এবং অমিত রসুল অপুকে পৌর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার তিনজনকেই সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, “এটি পুরনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা মামলা। ঘটনা ঘটার সময় এসব নেতা সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না।”
অন্যদিকে, বরগুনা জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা কালবিন্দুকে বলেন, “গত বছর আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অকারণে হামলা ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এখন মামলার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হচ্ছে।”
তারা আরও জানান, “আহত ছাত্রদল কর্মীদের অনেকেই এখনও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। আমরা চাই, হামলার সঙ্গে যারা জড়িত—তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, মামলাটি প্রাথমিকভাবে ধারা ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৫৪ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন অনুযায়ী রেকর্ড করা হয়েছে।
ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “এটি একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা তদন্তে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে দেব না। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।”
আমতলী উপজেলায় ছাত্ররাজনীতি বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সামাজিক আধিপত্যের কারণে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গত বছর ২২ অক্টোবরের ওই ঘটনায়ও দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরেই হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
একজন স্থানীয় বিশ্লেষক কালবিন্দুকে বলেন, “আমতলীসহ উপকূলীয় এলাকায় এখনো রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ছোট বিষয়েও বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের উচিত এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা।”
আমতলীর এই গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মামলার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেই দাবি করছেন।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা কী, তা স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে—প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।