টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। আবুধাবির শেখ জায়েদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে আফগানরা।
১৭ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্তে ব্যাট হাতে মোহাম্মদ নবি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সর্বমোট ২২১ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটারদের মধ্যে ছিল ধীরগতির ব্যাটিং, যা আফগানদের বোলিংয়ের সামনে রান তুলতে ব্যর্থ করে। বিপরীতে আফগান ব্যাটাররা লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত ব্যাটিং করে জয় নিশ্চিত করে ফেলে।
২২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইবরাহিম জাদরান দলকে এনে দেন ৫২ রানের শক্তিশালী সূচনা। এরপর ২৩ রানে আউট হন ইবরাহিম।
আরও পড়ুন
ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় নরওয়ে
দ্বিতীয় উইকেটে নামা সেদিকুল্লাহ আতাল ১৫ বলে মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তবে তৃতীয় উইকেটে গুরবাজ ও রহমত শাহ দারুণভাবে দলকে চাপে পড়তে দেননি। ৭৬ বলে ৫০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হন গুরবাজ, আর রহমত শাহ ৭০ বলে করেন ৫০ রান।
শেষদিকে আজমত উল্লাহ ওমরজাই (৪৪ বলে ৪০ রান) ও অধিনায়ক হাশমত উল্লাহ শহিদি (৩৩*) দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। আর মোহাম্মদ নবি ৮ বলে ১১ রান করে ছক্কায় জয় নিশ্চিত করেন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশি ব্যাটাররা বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান আসে নজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়–এর ব্যাট থেকে। তবে মাঝারি পর্যায়ের বোলিংয়ের বিপক্ষে দলের ব্যাটিং ভাঙনের কারণেই ২৫০ রানের নিচে থেমে যায় ইনিংস।
শেষদিকে আফিফ হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে রশিদ খান, ফজল হক ফারুকি ও ওমরজাই ছিলেন কার্যকর।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তানজিম হাসান সাকিব, যিনি একাই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তার ধারাবাহিক স্পেল কিছুটা চাপ সৃষ্টি করলেও আফগান ব্যাটাররা ঠাণ্ডা মাথায় খেলে পরিস্থিতি সামাল দেন।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার একই ভেন্যুতে। প্রথম ম্যাচে হারের পর টাইগারদের সামনে এখন সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়ে দিয়েছে, দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের লক্ষ্য, সিরিজ আগেই নিশ্চিত করা। কোচ জনাথন ট্রট বলেছেন,
“টি-টোয়েন্টি সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে ছেলেরা যে মনোযোগে ফিরেছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। এখন আমরা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।”
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।