এমন দৃশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটে খুব একটা দেখা যায় না-টানা তিন ম্যাচ হেরে সিরিজে ধবলধোলাই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সেই দুঃস্বপ্নই এবার বাস্তব হলো। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ একটিও জয় না পেয়ে ফিরছে হতাশা নিয়ে। এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজ মিলিয়ে প্রায় দেড় মাসের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষ হলো ব্যাটিং ব্যর্থতা ও মনোবল হারানোর গল্পে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়ানডে ফরম্যাটে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। শেষ ম্যাচে ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ২০০ রানের বিশাল পরাজয় বরণ করতে হয় মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে। এই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ যেন নিজেদের ছায়ামাত্র হয়ে পড়েছিল। এ বছর খেলা আট ওয়ানডের মধ্যে মাত্র একবারই অলআউট হয়নি দলটি—যা স্পষ্ট করে দেয় ব্যাটারদের ভয়াবহ ফর্মহীনতা।
আবুধাবির শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা শুরু থেকেই ছিলেন অনিশ্চিত। ইনিংসের শুরুতেই টপ অর্ডার ধসে পড়ে। আফগানিস্তানের পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় সবাইকে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজও খোলামেলা স্বীকার করেছেন দলের ব্যর্থতা। তাঁর ভাষায়, “আমাদের অনেক ভুল ছিল। রান করতে পারিনি। সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। আমরা ভালো খেলিনি—এটা দলের সবাই মেনে নিয়েছে। আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ খুব ভালো ছিল, কিন্তু আমাদের তা সামলানো উচিত ছিল।”
আফগানিস্তানের বোলাররা পুরো সিরিজজুড়েই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। বিশেষ করে ফজলহক ফারুকি ও রশিদ খান বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইনআপকে একের পর এক চাপে ফেলেছিলেন। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মাঝে ছিল আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, শট বাছাইয়ে ভুল, আর টেকনিক্যাল দুর্বলতা।
আরও পড়ুন
মিরপুরে স্পিনে ভরসা, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
এই ধবলধোলাইয়ের প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ২০২৭ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথে। বর্তমানে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে দশ নম্বরে থাকা দলটির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ সেরা নয়ে জায়গা করে নেওয়া। আগামী ২৩ ম্যাচে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা কঠিন হয়ে পড়বে।
আফগানিস্তান সফর শেষে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে নতুন চ্যালেঞ্জ—মাত্র তিন দিন পরই শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ। এই স্বল্প সময়ে দলকে নতুনভাবে প্রস্তুত করা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় কাজ হবে টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য।
মিরাজ নিজেও পরবর্তী সিরিজ নিয়ে সতর্ক ও আত্মসমালোচনামূলক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, “আমরা কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় দুর্বল। রান না করতে পারলে জেতা সম্ভব নয়। আমাদের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। পরের সিরিজে কীভাবে ভালো করা যায়, সেটা নিয়েই এখন ভাবছি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটকে এখনই পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুনদের সমন্বয় ঘটিয়ে পরবর্তী সিরিজগুলোতে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় টুর্নামেন্টের আগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।