নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহ মিয়া হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সম্প্রতি একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়, যেখানে মসজিদে জামাতে একটানা ১০ দিন নামাজ আদায় করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জামায়াত কার্যালয়ে ওই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলছিল।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন কর্মী হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ছাত্রশিবিরের তিন থেকে চারজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে শিবিরের জেলা দক্ষিণ সেক্রেটারি আরাফাত হোসেন, সাবেক ও বর্তমান অফিস সম্পাদক ও সাহিত্য সম্পাদক রয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নোয়াখালী জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আরাফাত হোসেন বলেন, “আমরা কোরআনের শিক্ষা ও নামাজে উৎসাহিত করতে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার মুহূর্তে বিএনপি নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। আমাদের কয়েকজন ভাই আহত হয়েছেন।”
আরও পড়ুন
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে ছাত্রশিবিরের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিএনপি বারবার জামায়াত ও শিবিরের সামাজিক কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিপন্থী।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কবিরহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন বলেন, “জামায়াত কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। স্থানীয় এক ব্যক্তি তার স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে মাদ্রাসায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জামায়াত কার্যালয়ে দেখেন। সেখানে শিশুটিকে কেন আনা হয়েছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হলেও এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা নয়।”
তিনি বলেন, “আমাদের দলের কেউ সেখানে হামলায় জড়িত নয়। জামায়াত নিজেদের প্রচারের জন্য ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করছে।”
ঘটনার পরপরই কবিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন,
“জামায়াতের কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আবদুল্লাহ মিয়ারহাট এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, জামায়াত ও বিএনপি—উভয় দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধও বৃদ্ধি পেয়েছে।
একজন স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক বলেন, “একসময় এই দুই দল রাজনৈতিকভাবে একে অপরের সহযোগী ছিল। এখন মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বাড়ায় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অনেক এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির সম্পর্ক বর্তমানে ‘কৌশলগত দূরত্বে’ রয়েছে। একদিকে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনে জামায়াতের সরাসরি অংশগ্রহণ চায় না, অন্যদিকে জামায়াত নিজস্ব সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। ফলে এ ধরনের সংঘর্ষ বা হাতাহাতির ঘটনা ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।