লাহোর টেস্টের প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান ছিল দারুণ অবস্থানে। চার ফিফটিতে ৫ উইকেটে ৩১৩ রান তুলে তারা ভরসা জাগিয়েছিল বড় সংগ্রহের। দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাট হাতে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা—মনে হচ্ছিল, তাদের জুটিতেই ৪০০ পেরিয়ে যাবে ইনিংস। কিন্তু দিনের প্রথম সেশনেই গল্পটা বদলে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি স্পিনার সেনুরান মুথুসামি।
দিন শুরু হয় পাকিস্তানের ৩১৩ রানে, রিজওয়ান ৭৯ ও সালমান ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুজনের ব্যাটে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৬২। সেখানেই ঘটে ধস—৭৫ রান করে ফেরেন রিজওয়ান। ভাঙে ১৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে বাকি ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
পুরো ইনিংসে ছয় উইকেট শিকার করেন মুথুসামি, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। ১১৭ রান খরচায় এই বাঁহাতি স্পিনার তুলে নেন পাকিস্তানের শেষ পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে চারজনকেই। তার স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের মিডল ও লোয়ার অর্ডার।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন তিন ব্যাটার—ইমাম-উল-হক (৯৩), শান মাসুদ (৭৬) এবং সালমান আগা (৯৩)। তিনজনই ফিফটি ছুঁয়ে আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন শতকের কাছাকাছি পৌঁছে। বিশেষ করে সালমানের ইনিংসটি ছিল ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল, তবে প্রাপ্য শতক থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থেমে যেতে হয় তাকে।
আরও পড়ুন
চূড়ান্ত ২০ দল, ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
অন্যদিকে, পাকিস্তানের টেলএন্ড ব্যাটারদের মধ্যে কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। দ্বিতীয় দিনের সকালের ঘণ্টাখানেকেই ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের প্রতিরোধ। শেষ পর্যন্ত ৩৭৮ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
মাঠে থাকা দর্শকরা প্রত্যাশা করছেন, তৃতীয় দিনেই লড়াই জমে উঠবে ব্যাটার বনাম স্পিনারদের মধ্যে। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে দায়িত্ব থাকবে নোমান আলী ও সাজিদ খানের কাঁধে, যারা মুথুসামির মতো প্রভাব ফেলতে চান নিজেদের ঘরের মাটিতে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।