ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঠিন সময় পার করছে। টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের অভাবে সমালোচনার মুখে থাকা ক্যারিবীয় দল এবার দিল্লির টেস্টে খুঁজে পেয়েছে একটুখানি স্বস্তি। জন ক্যাম্পবেলের সেঞ্চুরির পর এবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছেন দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার শাই হোপ। দীর্ঘ আট বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে শতক তুলে নিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে সর্বশেষ টেস্ট শতক করেছিলেন হোপ। সেই ম্যাচে তিনি দুই ইনিংসেই শতক হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। তবে এরপর সময়টা তার জন্য ছিল ব্যর্থতায় ভরা। একের পর এক ইনিংসে ব্যর্থ হয়ে তিনি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেছিলেন আত্মবিশ্বাস। এমনকি এক সময় টেস্ট দলে জায়গাও হারান। তবে ২০২৫ সালের দিল্লি টেস্টে সেই পুরনো শাই হোপকে আবার দেখা গেল—ধৈর্য, শট নির্বাচনে পরিপক্বতা এবং দৃঢ় মানসিকতায় তিনি তুলে নিলেন নিজের তৃতীয় টেস্ট শতকটি।
এছাড়া শাই হোপ নিজের নাম তুলেছেন আরেকটি অনন্য রেকর্ডেও। টেস্ট ক্যারিয়ারে দুই শতকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইনিংস বিরতি (৫৮ ইনিংস) দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন জারমেইন ব্ল্যাকউডকে, যার ইনিংস বিরতি ছিল ৪৭। এই তালিকায় আরও আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন তারকা ব্যাটাররা — ক্রিস গেইল (৪৬ ইনিংস), ডোয়াইন ব্রাভো (৪৪ ইনিংস), এবং শিবনারাইন চন্দরপল (৪১ ইনিংস)।
শাই হোপের এই শতক শুধু তার নিজের নয়, বরং গোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য এক প্রেরণার মুহূর্ত। দিল্লির কঠিন পিচে ভারতের বোলারদের বিপক্ষে তার ধৈর্যশীল ইনিংস দলের ব্যাটিং লাইনআপে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে।
আরও পড়ুন
টানা ১০ টেস্ট সিরিজে জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস ভারতের
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে পুনর্জাগরণের সূচনা হতে পারে। হোপের ব্যাটে ভর করে হয়তো আবারও পুরনো মেরুন গৌরব ফিরে পেতে পারে দলটি।
জন ক্যাম্পবেলের শতকের পর শাই হোপের শতক যেন ক্যারিবীয় শিবিরে ফিরিয়ে এনেছে নতুন আলো। এখন প্রশ্ন একটাই — এই পারফরম্যান্স কি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফিরিয়ে আনবে সেই পুরনো সোনালি দিনগুলোর পথে?















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।