ম্যাচের শেষ দুই ওভার পর্যন্ত জয়ের দোরগোড়ায় ছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ২০৩ রানের লক্ষ্য থেকে তখন মাত্র ১২ রান দূরে, হাতে ৫টি উইকেট এবং অভিজ্ঞ নিগার সুলতানা জ্যোতি ছিলেন ক্রিজে ৭৬ রানে। দর্শকরা তখনই ভেবেছিলেন—এই ম্যাচ আর হাতছাড়া নয়। কিন্তু ক্রিকেট যেমন অনিশ্চয়তার খেলা, ঠিক তেমনি এক অবিশ্বাস্য পতনেই ম্যাচ হারল বাংলাদেশ, হারাল বিশ্বকাপের আশা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসের ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে শুরু হয় বিপর্যয়। রিতু মনি আউট হলে ম্যাচের চিত্র একেবারে পাল্টে যায়। সেই ওভারে মাত্র ৩ রান আসে, ফলে শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান। কিন্তু শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সেই ওভারে বল হাতে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর ঝড় তোলেন। একে একে চারটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ, যার মধ্যে জ্যোতিও আউট হন ৭৭ রানে। শেষ ব্যাটার শারমিন আক্তার সুপ্তা এক বল খেলার সুযোগ পেলেও কোনো রান তুলতে পারেননি। ফল—৭ রানের হৃদয়ভাঙা পরাজয়, এবং সেই সঙ্গে নারী বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়।
অন্যদিকে, প্রথম জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের ক্ষীণ আশা টিকিয়ে রাখল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন,
“শুরু থেকেই মনে হচ্ছিল ম্যাচটা আমাদেরই। আমি আর শারমিন ভালো খেলছিলাম। ওর ক্র্যাম্পে চলে যাওয়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়েছি, যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। টানা তিনটা ম্যাচ এমনভাবে হেরে যাওয়া সত্যিই হৃদয়ভাঙা।”
আরও পড়ুন
নাহিদার অবিশ্বাস্য স্টাম্পিংয়ে, হতভম্ব শ্রীলঙ্কার দিলহারি
জ্যোতি আরও বলেন,
“আমরা পাওয়ারপ্লেতে উইকেট না হারানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। শেষের আগের ওভারেই ম্যাচ শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ ওভারে চাপ নিতে পারিনি। আমাদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে হবে।”
শেষ ওভারের এই হার শুধুই এক ম্যাচের হার নয়—এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য এক কঠিন শিক্ষা।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।