শিরোনাম LIVE
২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কারণ জানতে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডাকল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু নিয়ে যা জানা গেল ১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির, সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে নেওয়া হচ্ছে ইউরেনিয়ামের বিশেষ চালান ১০০ জনকে পার্টটাইম চাকরি দেবে আড়ং, লাগবে না অভিজ্ঞতা এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চাকরিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম ফেসবুকে আসছে বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ পদত্যাগের পর যে বার্তা দিলেন মোদির অনুগত শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষা স্থগিত তাসকিনই এনে দিলেন দ্বিতীয় উইকেট, চাপে জিম্বাবুয়ে নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী সন্দেহে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ মোমেন্ট অব দ্য ডে ৬ পদে মোট ৭৩১ জনকে নিয়োগ দেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর সার্টিফিকেটে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা বোর্ডের বাংলাদেশ থেকে খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান গেলেন যারা স্টেডিয়াম সংস্কারে ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প. বালু উত্তোলন ও মাটি কাটায় দক্ষিণাঞ্চলে নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক

শেষনিঃশ্বাসে থেমে গেল আলোর পথযাত্রী যতীন সরকার: এক প্রজন্মের প্রেরণাদায়ক জীবনের অবসান

শেয়ার
শেষনিঃশ্বাসে থেমে গেল আলোর পথযাত্রী যতীন সরকার: এক প্রজন্মের প্রেরণাদায়ক জীবনের অবসান

প্রগতিশীল চিন্তা, মানবিক দর্শন আর নিরলস সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল নাম যতীন সরকার। বুধবার বিকাল পৌনে ৩টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামে ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট জন্ম নেওয়া এই শিক্ষক, লেখক ও চিন্তাবিদ পরবর্তীতে জেলা শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে ‘বানপ্রস্থ’ নামের নিজ বাসভবনে বসবাস শুরু করেন। আজ সেই শহরজুড়ে শোকের ছায়া— রাস্তায়, গলিতে, চায়ের আড্ডায়, সর্বত্রই উচ্চারিত হচ্ছে এক নাম— যতীন সরকার।

বিজ্ঞাপন

জীবনের শেষ দিকে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত জুনে এক দুর্ঘটনায় উরুর হাড়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটে। তবে শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব ছিল স্পষ্ট ও প্রাণবন্ত।

কৈশোর থেকেই তিনি দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেছেন। টিউশনি করে, ছোটখাটো কাজ করে নিজের শিক্ষার ব্যয় মেটাতেন। ছাত্রজীবনে ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী— নেত্রকোণা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়াকালীনই ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন পূর্বধলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দীর্ঘদি. অন্যান্য · ১৬.১১.২০২৫

শিক্ষকতা জীবনের সূচনা আশুজিয়া হাই স্কুলে, পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়ন শেষে যোগ দেন নাসিরাবাদ কলেজে। দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেছেন এই প্রতিষ্ঠানে। তাঁর ক্লাসরুম কেবল পাঠদানের জায়গা ছিল না— ছিল মুক্তচিন্তা, যুক্তি আর মানবিকতার আলোয় ভরা এক বিদ্যালয়।

প্রায় ছয় দশক ধরে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা চালিয়ে গেছেন তিনি। রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজচিন্তায় তাঁর গভীর উপস্থিতি তাঁকে পরিণত করেছে এক প্রজন্মের প্রেরণায়। দুই মেয়াদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি লিখেছেন আড়াই ডজনেরও বেশি বই, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা, পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন, বাংলাদেশী কাবি গান, বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংগ্রাম। এসব রচনায় রাজনীতি, সংস্কৃতি ও মানবতার মেলবন্ধনে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক গভীর চিন্তার ভুবন।

বিজ্ঞাপন

তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০৮) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১০)। কিন্তু যতীন সরকারকে সত্যিকারভাবে বড় করে তুলেছে তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতা।

বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাত সাড়ে আটটায় তাঁর মরদেহ পৌঁছায় নেত্রকোনায়। প্রথমে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয় মরদেহ। সেখানে জনসাধারণের ঢল নামে— কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে, কেউবা চোখ মুছে।

পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় উদীচী কার্যালয়ে, যেখানে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর সাতপাই রামকৃষ্ণ মিশনে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর প্রিয় বাসভবন ‘বানপ্রস্থ’-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

রাত ১টায় নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে তাঁর দেহ দাহ সম্পন্ন হয়। চিতার আগুনে নিভে গেছে দেহ, কিন্তু যতীন সরকারের শিক্ষা, চিন্তা ও মানবিকতার আলো নিভবে না কোনোদিন।

এই জনপদের বাতাসে, সংস্কৃতির চর্চায়, ছাত্রদের অনুপ্রেরণায় তিনি রয়ে যাবেন চিরকাল—
একজন প্রবীণ শিক্ষক, অনমনীয় চিন্তাবিদ ও মানুষের মুক্তির সাধক হিসেবে।

অনুমোদন করেছেন: টাইমসনিউজ২৪.কম ডেস্ক - এডমিন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
NN
লেখক সম্পর্কে No Name টাইমস নিউজ ২৪
পরবর্তী খবরচাতক পাখির মতো চেয়ে থাকি কখন আসবে বর্ষা ঋতু

আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য করতে লগইন করুন

এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।

খোলা চিঠি থেকে আরও

বিভাগ দেখুন →
Times News 24
Total Visitors
—
Today: —