জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি–টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসরেও বাজিমাত করল রংপুর বিভাগ। আকবর আলীর নেতৃত্বে দারুণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিয়েছে।
রোববার (১২ অক্টোবর) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে খুলনা বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর।
ফাইনালের মঞ্চে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে খুলনা বিভাগের ইনিংস শুরু হয় দুঃস্বপ্নের মতো। রংপুরের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই সংগ্রাম করতে থাকেন।
প্রথম ওভারেই খুলনার ওপেনার ইমরানুজ্জামান শূন্য রানে আউট হন নাসুম আহমেদের বলে। এরপর থেকেই যেন ব্যাটিং লাইনআপে ছন্দ হারায় খুলনা।
পাওয়ারপ্লেতে ৬ ওভারে মাত্র ১৯ রান সংগ্রহ করতে পারে দলটি—যা টি–টোয়েন্টি ফাইনালের জন্য হতাশাজনক সূচনা। সৌম্য সরকার ২২ বলে মাত্র ৮ রান করে ফিরলে চাপ আরও বেড়ে যায়। এরপর এনামুল হক বিজয় (১৫ বলে ১২), আফিফ হোসেন (১০ বলে ১৪) ও শেখ পারভেজ জীবন (৯ বলে ৮) ফিরে গেলে রানের গতি থেমে যায় পুরোপুরি।
তবে একপ্রান্ত আগলে খানিকটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। ৩২ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় তিনি করেন ৪৪ রান। সঙ্গ দেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, যিনি ১৩ বলে ২৪ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় খুলনা নির্ধারিত ২০ ওভারে থামে ৮ উইকেটে ১৩৬ রানে।
আরও পড়ুন
মিরপুরে স্পিনে ভরসা, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
রংপুরের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন—তিনি নেন ২ উইকেট। নাসুম আহমেদ, আবু হাসিম, ইকবাল হোসেন, এনামুল ও আলাউদ্দিন বাবু প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট।
টার্গেট ছিল ১৩৭—টি–টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য। তবে ফাইনালের চাপ সবসময়ই আলাদা। কিন্তু সেই চাপকে উপভোগ করেই রংপুরের দুই ওপেনার নাসির হোসেন ও জাহিদ জাভেদ শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ হাতে নেন।
নাসির ৩১ বলে ৪৬ রান করে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। অপর প্রান্তে জাহিদ জাভেদও দেন কার্যকর সহায়তা। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫৫ রান, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রংপুরের দিকে নিয়ে যায়।
নাসিরের আউটের পর ব্যাট হাতে আসেন অধিনায়ক আকবর আলী। তাঁর শান্ত অথচ দৃঢ় ইনিংসই শেষ পর্যন্ত রংপুরকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। ৩১ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে তিনি দলকে ফাইনাল জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। নাইম ইসলাম যোগ করেন ১৫ বলে ১৯ রান।
রংপুরের ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১৬.৫ ওভারে—হাতে থাকে ১৯ বল ও ৮ উইকেট।
এই জয়ের মাধ্যমে রংপুর বিভাগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো এনসিএল টি–টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল। গত বছরও আকবর আলীর নেতৃত্বেই দলটি ট্রফি জিতেছিল। এবারও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা প্রমাণ করল, ঘরোয়া টি–টোয়েন্টিতে রংপুরই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী দল।
ফাইনালের পর আকবর আলী বলেন,
“দলের সবাই দুর্দান্ত খেলেছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে শুরুটা নিয়ন্ত্রণ করা, আমরা সেটা পেরেছি। এই জয়ের কৃতিত্ব পুরো টিমের।”
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তারাও প্রশংসা করেছেন রংপুরের পারফরম্যান্সের। বিশেষ করে স্থানীয় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এই আসরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
ফলাফল:
খুলনা বিভাগ: ১৩৬/৮ (২০ ওভার)
রংপুর বিভাগ: ১৩৮/২ (১৬.৫ ওভার)
ফল: রংপুর বিভাগ জয়ী ৮ উইকেটে
শিরোপা: এনসিএল টি–টোয়েন্টির টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন রংপুর
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।